Spread the love

দেশের কমপক্ষে ২৯টি জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে অঝোরধারায় যে ভারি বৃষ্টিপাত হলো,তাতে মানুষের তাৎক্ষণিক ভোগান্তির পর এখন হিসেব-নিকেষ হচ্ছে দেশের কৃষিখাতের ক্ষয়-ক্ষতির । সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, সদ্য রোপণ করা চারা ও গ্রীষ্মকালীন সবজিখেত ।

সরকারের কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৬ হেক্টর কৃষিজমি বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন গনমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে অনেক মাছের ঘের। বিপাকে পড়েছেন পোলট্রি ও গবাদিপশুর খামারিরাও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার পর্যন্ত দেশের ২৯টি জেলার ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৬ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। আক্রান্ত জমির পরিমাণ ৭৬ হাজার ৬০ হেক্টর, যা মাঠে থাকা মোট আউশের ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এবার মোট আউশ ধান চাষ করা হয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে।

 

এছাড়া ১৫ হাজার ৩২৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিখেত এবং ৯ হাজার ৬১৯ হেক্টর আমনের বীজতলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, আক্রান্ত বীজতলার চারা দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা সম্ভব। ধান, বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ছাড়াও আরো ৩ হাজার ৯৩২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবারের প্লাবনে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সামগ্রিক উৎপাদনে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়বে। এর প্রভাব কৃষিপণ্য সরবরাহ, বাজার ব্যবস্থা এবং খাদ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, কৃষকদের পুনর্বাসন, বীজ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উৎপাদন পুনরুদ্ধারে জরুরি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার যত দ্রুত হবে, উৎপাদন ও বাজারে নেতিবাচক প্রভাবও তত কম থাকবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএ সাত্তার মন্ডল বলেন, ‘অনেক কৃষক শুধু নিজের জমিতে চাষের জন্য নয়, বিক্রির উদ্দেশ্যেও ধান ও বিভিন্ন সবজির বীজতলা তৈরি করেন। ফলে বীজতলা নষ্ট হলে তারা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে বন্যার পানি কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। আবহাওয়া দ্রুত অনুকূলে ফিরলে অবশ্য সামগ্রিক ক্ষতি তুলনামূলক কম হবে।’